মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

পেক্ষাপট

রাজধানী শহর ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টলার মাঝখানে উত্তম যোগাযোগের কেন্দ্র বিন্দুতে ঐতিহাসিক প্রয়োজনে ফেনী জেলার প্রাণকেন্দ্রে অতিব জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে ১৯৫৮ সালে এ পৌরসভার জন্ম। তাপস শ্রেষ্ঠ অলিকুলের শিরোমনি মরহুম সৈয়দ আমির উদ্দিন ওরফে পাগলা মিঞার আর্শিবাদপুষ্ট তদানিন্তন মহকুমা শহর এ ফেনী। ৬.৪৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত এ ফেনী পৌরসভায় ০৬টি ওয়ার্ড থেকে বর্তমানে  ১৮টি ওয়ার্ডে উন্নিত একটি ‘ক’ শ্রেণীর পৌরসভা এবং আয়তন ২৭.২০ বর্গ কিলোমিটার।

 

যোগাযোগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ পূর্ব বাংলার নাভী বলে কথিত এ ফেনী দ্রুত উন্নয়ন শীল ক্রমবর্ধিষ্ণু পৌরসভা। লোকসংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষাধিক। তাছাড়া জেলা প্রধান শহর হওয়ায় ক্রয়-বিক্রয়ের প্রানকেন্দ্রে একটি মাত্র বাজার ফেনী বাজার। দৈনন্দিন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় ও অফিসিয়াল প্রয়োজনে স্থায়ী অধিবাসীগণ ছাড়া আরও  প্রায় বিপুল সংখ্যক বহিরাগত লোকের সমাগম ঘটে থাকে এ পৌর শহরে।

 

তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক কবি নবীন চন্দ্র সেন ও মিজানুর রহমানের হাতে গড়ে উঠা এ মহকুমা শহর। মানব শিশুর ক্রমবিকাশের মত হাটি হাটি পাঁ পাঁ করে বর্তমানে ফেনী একটি জেলা প্রধান শহর এবং ফেনী পৌরসভা একটি ‘ক’ শ্রেণীর পৌরসভায় রূপান্তরিত হয়। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পৌরসভাও ধাপে ধাপে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। বর্তমানে ফেনী পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। যাহা গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরাধিকারী গণতন্ত্রের মানস কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সদয় সক্রীয় বিবেচনাধীন আছে।

 

পৌরসভা একটি সেবা ও জনকল্যাণমূলক স্ব-শাষিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। পৌর নাগরিকদের মৌলিক চাহিদাদি পূরণ পূর্বক চাহিত সেবা নিশ্চিত করা পৌরসভার কাজ। ফেনী পৌরসভা তার ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে কুমিল্লা জেলার দক্ষিণাংশ, নোয়াখালী জেলার পূর্বাংশ, খাগড়াছড়ি জেলার পশ্চিমাংশ, চট্টগ্রাম জেলার উত্তরাংশের বেশ কিছু অঞ্চলের লোকজনেরও এ শহরের উপরদিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত কিম্বা ব্যবসা বাণিজ্যের কারণে পণ্য পরিবহনের জন্য ফেনীতে আগমন করে থাকেন। ফলে সংগত কারনে জনসেবার বাড়তি চাপও পৌরসভাকে বহন করতে হয়।

 

শিক্ষা সংস্কৃতিও ক্রীড়া জগতে ও ফেনী পৌরসভা যথাসাধ্য অবদান রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। অনেক দেশ বরেণ্য ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়ামোদির জন্ম এ ফেনীতে। দেশ বরেণ্য সাংবাদিক, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের পুরদা মরহুম খাজা আহাম্মদসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বেরও জন্ম এ ফেনী শহরে। তাদের সুনিপুন পরিচালনায় ফেনী পৌরসভা ধীরে ধীরে আজকের অবস্থানে উন্নিত হয়েছে।

 

তাপস শ্রেষ্ঠ পির পাগলামিয়ার মাজার, ফেনী গালর্স ক্যাডেট কলেজ, ফেনী কম্পিউটার ইন্সটিটিউট সহ ফেনীতে ২টি সরকারী কলেজ ও ১৫টি বেসরকারী কলেজ, ১৫টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১৬টি মাদ্রাসা, সরকারী বেসরকারী ও রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৩টি, কিন্ডার গার্টেন সহ পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত ১টি মাধ্যমিক ও ১ টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। পৌর এলাকায় অবস্থিত এ সকল সরকারী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর অসহনিয় সমস্যা সমাধানে পৌরসভা হতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়ে থাকে।

 

পৌরসভা এলাকা সম্প্রসারনের ১টি পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতিমধ্যে যাবতীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। যুগের প্রয়োজনে শহর এলাকা হিসাবে অর্জিত যোগ্যতা সম্পন্ন প্রস্তাবিত এলাকা পৌরসভা ঘোষিত হলে এর আয়তন দাড়াবে প্রায় ৪৫.০০ বর্গ কিলোমিটার। লোক সংখ্যা হবে প্রায় ৪ লক্ষ ওয়ার্ড সংখ্যা হবে প্রায় ২৭ টি।

 

পৌরসভা এলাকায় উল্লেখ যোগ্য কোন শিল্প কলকারখানা না থাকায় পৌরকরই পৌর রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। স্থানীয় রাজস্ব আয়ের সাহায্যে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি, সড়ক বাতির ব্যবস্থা করণ, কঞ্জারভেন্সী জঞ্জাল পরিবহন সহ দৈনন্দিন অত্যাবশকীয় সংস্থাপন ব্যায়াদি মিঠাইয়া ও স্থানীয় রাজস্ব আয়ের সাহায্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়ে থাকে।

 

পৌরসভার স্থানীয় রাজস্ব আয়ের সাহায্যে   জন চাহিদাপূরনে পুরাপুরি সক্ষম নহে বিধায় সরকারের সহযোগিতায় দাতা সংস্থাদের অর্থায়নে জেলা শহর উন্নয়ন প্রকল্প, ইউজিআইআইপি-১, ইডিডিআরপি, গুরুত্বপূর্ণ শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, বিএমডিএফ প্রকল্প সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে এমএসপি-২ ও ৩৭, জেলা শহর পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ চলমান/প্রক্রিয়াধীন আছে। পৌর বাসীদের পৌরকর প্রদানের স্পৃহা অন্যান্য পৌরসভার চাইতে উত্তম। পৌরবাসী ও সরকার থেকে নির্দেশনামূলক সহযোগিতা ও দাতা সংস্থাদের সহানুভূতি পেলে ফেনী পৌরসভা অচীরে ইনশাআল্লাহ্ পৌরবাসীদের কাঙ্খীত স্বপ্নের পৌরসভা এবং বাংলাদেশের একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তরিত হবে।